দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গোপালগঞ্জের এস.এম. মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল লটারির বাইরে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং এক অভিভাবকের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দাবি ও গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক মো. মুজাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রেশমা আক্তার নামের এক অভিভাবক। অভিযোগে তিনি প্রধান শিক্ষক ও তার বেয়াই হিসেবে পরিচিত সহকারী শিক্ষক মো. মুজাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যোগসাজশ করে শিক্ষার্থীপ্রতি লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন।
অভিযোগপত্রে ওই অভিভাবক জানান, তার ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহকারী শিক্ষক মো. মুজাহিদুল ইসলাম প্রথমে এক লাখ টাকা নেন। পরে ভর্তি সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষককে দেওয়ার কথা বলে আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে দুই দিন ক্লাস করার সুযোগ দেওয়ার পর জেলা প্রশাসকের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে তাকে ক্লাস করতে নিষেধ করা হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে ডিসি অফিস ম্যানেজ করার অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত তথ্যে দেখা যায়, ডিজিটাল লটারি, সরকারি মেধাতালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন সময় ষষ্ঠ শ্রেণির দিবা ও প্রভাতী শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দিবা শাখায় আব্দুর রহমানকে (রোল-৩৩৭) এবং প্রভাতী শাখায় ইস্তিয়াক হোসাইনকে (রোল-৩৩৫) ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রভাতী শাখায় মাহিন হাওলাদারকে (রোল-২৫৫) এবং এপ্রিলে সৌহার্দ্য ভাদুড়িকে (রোল-২৫৭) নিয়মবহির্ভূতভাবে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল লটারি ও নির্ধারিত অপেক্ষমাণ তালিকার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, জানুয়ারি ও এপ্রিল মাসেও অর্থের বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে, যা সরকারি নীতিমালার লঙ্ঘন।
অভিযোগকারী অভিভাবকসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শুধু এই চারজন নয়, অন্যান্য শ্রেণিতেও একই কায়দায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র লটারিতে সুযোগ না পাওয়া ধনী ও প্রভাবশালী অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে গোপনে শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসছে। তাঁরা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ। তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার সুপারিশে ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছে। তবে ভর্তির জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ভর্তির বিষয়ে ভর্তি কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসককে কেন জানানো হয়নি, সে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।
জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি মো. আরিফ উজ জামান বলেন, একজন অভিভাবকের অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই